Free delivery on all orders over ৳2,000!Shop Now

Modhupok Logo
BooksAuthorsServicesBlogAbout UsContact
Login
Modhupok Logo

Editing, translation & publishing, bringing your words to their flawless final composition.

Policies

  • Privacy Policy
  • Return Policy

Contact

Bulbul Nikunja, 34/4 Ahmedbag,
Dhaka 1214, Bangladesh

+8801972334483

buzz@modhupok.com

Get Weekly Picks

New books, author news & exclusive offers.

© 2026 Modhupok. All rights reserved.

HomeBlogনূতন কথা গড়া
Publishing Insights

নূতন কথা গড়া

হশহরপ্রসাদ শাস্ত্রী
6/19/2026
WhatsAppFacebookXLinkedIn
নূতন কথা গড়া

যে কেহ বাংলা ভাষায় লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন, তিনি জানেন যে, বাংলা ভাষায় অনেক ভাব সহজে ব্যক্ত করিতে পারা যায় না। ঐ-সকল ভাব ব্যক্ত করিতে গেলে, কী উপায় অবলম্বন করা উচিত, তাহা লইয়া নানা মতভেদ আছে। অনেকে বলেন, নূতন ভাব প্রকাশ করিবার জন্য নূতন শব্দ গঠন করা আবশ্যক। অনেকে বলেন, অন্যান্য ভাষা হইতে নূতন শব্দ আমদানি করা আবশ্যক। অনেকে বলেন, চলিত কথা দিয়া যেরূপ হউক ভাব প্রকাশ হইলেই যথেষ্ট হইল। ইংরেজিতে যে ভাব এক কথায় ব্যক্ত হয়, বাংলায় যদি তাহাই ব্যক্ত করিতে তিন ছত্র লিখিতে হয়, সেও স্বীকার, তথাপি নূতন শব্দ গঠন বা ভাষান্তর হইতে শব্দ আনয়ন উচিত নহে। আমরা এ তিনটির কোনো মতেরই সম্পূর্ণ পোষকতা করিতে পারি না। কখনো কখনো নূতন শব্দ গঠনের প্রয়োজন হয়; কখনো ভাষান্তর হইতে শব্দ আনয়নের প্রয়োজন হয়; কখনো অনেক কথায় ভাবটি ব্যক্ত করিতে গেলে, লেখার বাঁধনি থাকে না, এবং ভাবটিও সম্পূর্ণরূপে ব্যক্ত করা যায় না।
একটি উদাহরণ দিয়া পূর্বোক্ত কথাগুলি পরিষ্কার করিয়া বুঝাইতে চেষ্টা করিব। ‘উকিলিতে আজকাল বড়োই competition’। এখন competition শব্দে যে ভাব ব্যক্ত হয়, বাংলা ভাষায় তাহা ব্যক্ত করিবার কোনো কথা নাই। আমরা কী করিব? ঐ শব্দটি কি বাংলা করিয়া লইব, না উহার পরিবর্তে সংস্কৃত ধাতু পাঠ খুঁজিয়া ‘সংঘর্ষ’ শব্দ গড়িয়া লইব। না বলিব উকিলিতে আজকাল অনেক লোক হইয়াছে, অতএব উহাতে পসার করা বড়োই শক্ত।
এই তিন উপায়েই দোষগুণ উভয়ই আছে। সংঘর্ষ শব্দটি হয়তো একেবারেই নূতন, যদি সংস্কৃতে থাকে এরূপ অর্থে কখনো ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং সংঘর্ষ বলিলে, যিনি শব্দটি গড়িবেন, তিনি ভিন্ন অন্য কেহ বুঝিতে পারিবেন না। কিন্তু উহার এক গুণ আছে। উহা সংস্কৃত মূলক; সুতরাং অনেক লোক উহা ইংরেজি কথা অপেক্ষা ভালো বলিবেন, আর উহা যদি চলিয়া যায়, তবে ইংরেজের কাছে উহার জন্য দেন্দার থাকিতে হইবে না। কিন্তু এ কথা চলিবে কি?
যাহারা ইংরেজি জানে না, Competition কথাটি তাহারা বুঝিবে না; কিন্তু সংঘর্ষ বলিলে যত লোকে বুঝিবে তাহা অপেক্ষা অনেক অধিক লোকে বুঝিতে পারিবে।
‘উকিলিতে অনেক লোক হইয়াছে, অতএব পসার করা শক্ত’ বলিলে সকলেই বুঝিতে পারিবে, কিন্তু অল্প কথায় বলা না হওয়ায় কেমন একটু ভাসা ভাসা লাগে। হয়তো যে প্রণালীতে রচনা হইতেছে, অত কথায় বলিলে সে প্রণালীর সহিত সহচারবিরুদ্ধ হইয়া উঠে।
আমরা যে এই কথা বলিলাম, তাহার তাৎপর্য এই যে নূতন ভাব প্রকাশ করিতে গেলে প্রকাশকের বিশেষ বিবেচনা করিয়া কার্য করা আবশ্যক। হঠাৎ যাহা হয়, একটি করিয়া ফেলা উচিত নহে। কারণ এরূপ দূরূহ কার্যে হঠাৎ কিছু করিলে ভালো না হইয়া বরং মন্দ হইবার সম্ভাবনা। অতএব আমরা বলি নূতন ভাব প্রকাশ করিতে হইলে বা নূতন জিনিসের নাম দিতে হইলে, বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া, সংস্কৃত প্রভৃতিতে যে-সকল কথা চলিত আছে, সেগুলি প্রণিধান পূর্বক দেখা উচিত, যদি তাহার মধ্যে কোনো কথায় ভাব প্রকাশ হয়, তাহা হইলে সেই ভাষার কথাই প্রচলিত করিয়া দেওয়া উচিত। অনেক সময় চলিত ভাষায় এবং ইতর ভাষায় এমন সুন্দর কথা পাওয়া যায় যে, তাহাতে সম্পূর্ণরূপে মনের ভাব প্রকাশ করা যাইতে পারে।
প্রথম উদাহরণ
কাচ সহজেই ভাঙিয়া যায়। সহজে ভাঙা গুণ প্রকাশ করিবার জন্য ইতর ভাষায় একটি শব্দ আছে ‘ঠুনকো’, কিন্তু যাঁহারা স্কুলের বই লেখেন, তাঁহারা ঐ কথাটি না জানিয়া অথবা উহা ব্যবহার করিতে ইচ্ছা না করিয়া লিখিলেন কাচ ভঙ্গপ্রবণ। যাহা সহজে ভাঙিয়া যায় তাহার নাম সংস্কৃতে ভঙ্গুর, সুতরাং ভঙ্গপ্রবণ শব্দটি না বাংলা, না ইংরেজি, না সংস্কৃত। অথচ বাংলায় প্রায় দশ লক্ষ ছাত্র গুরুমহাশয়ের বেত্রাঘাতে শিখিল কাচ ভঙ্গুর নহে, ঠুনকোও নহে, উহা ভঙ্গপ্রবণ।
দ্বিতীয় উদাহরণ
‘দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থান’ বাংলায় নাই। সুতরাং উহার নামও বাংলায় নাই। কিন্তু আমার প্রয়োজন ঐ স্থানটির নাম দেওয়া। হিন্দিতে ঐ স্থানকে ‘দুন’ বলে। কিন্তু বঙ্গীয় গ্রন্থকারগণ ঐ কথাটি না জানিয়া অথবা উহা ব্যবহার করিতে ইচ্ছা না করিয়া লিখিলেন কী না উপত্যকা। উপত্যকা সংস্কৃতে চলিত শব্দ, কিন্তু দুঃখের মধ্যে এই যে, উহাতে পর্বতের আসন্ন ভূমি বুঝায়, দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থান বুঝায় না। সুতরাং গুরুমহাশয়ের বেত্রাঘাতে দশ লক্ষ বালক একটি ‘ভুল’ শিখিল।
তৃতীয় উদাহরণ
যেখানে বসিয়া জ্যোতির্বিদেরা গ্রহ নক্ষত্র প্রভৃতি গণনা করেন, তাহার হিন্দি নাম মানমন্দির বা তারাঘর কিন্তু অনেকে উহার ইংরেজি নাম observatoryর তর্জমা করিয়া নাম রাখিলেন, পর্যবেক্ষণিকা। কেহ বুঝিল না, অথচ কেতাবে কেতাবে চলিয়া গেল।
চতুর্থ উদাহরণ
ভারতবর্ষের উত্তর অংশের পর্বতময় প্রদেশকে লোকে উত্তরাখণ্ড বলে, কিন্তু ইংরেজিতে উহাকে Himalayan regions বলে বলিয়া বাংলা পুস্তকে উহার নাম হিমালয় প্রদেশ হইয়াছে। এরূপ উদাহরণের অভাব নাই, যথেষ্ট আছে।
তাই বলিতেছিলাম যে, নূতন ভাব প্রকাশ করিতে গেলে বিশেষ বিবেচনা করিয়া কার্য করা উচিত। কিন্তু দুঃখের মধ্যে বাঙালি লেখকদিগের মধ্যে কাহারোই সে বিবেচনা নাই। তাঁহারা পড়েন ইংরেজি, ভাবেন ইংরেজিতে সুতরাং লিখিবার সময়ে ইংরেজিতে ভাব আসিয়া যোগায়। জাতীয় স্বভাব আলস্য বিশেষ অনুসন্ধান করিতে দেয় না। অনেকের ইচ্ছা থাকিলেও বিদ্যায় কুলাইয়া উঠে না। যাঁহারা বেশি অলস, অথচ একটু বুদ্ধি আছে, তাঁহারা ইংরেজি ঠিক রাখিয়া দেন। যাঁহাদের উহারই মধ্যে একটু হিতাহিতজ্ঞান আছে, তাঁহারা যাহা হয় একটা তর্জমা করিয়া পরেই বন্ধনীর মধ্যে ইংরেজি কথাটি রাখিয়া দেন, অর্থাৎ দেশসুদ্ধ লোককে বলিয়া দেন, আমি তর্জমা করিতে চেষ্টা করিলাম কিন্তু আমার বিদ্যায় কুলাইয়া উঠিল না। অনেকে আবার শুদ্ধ তর্জমা করিয়াই রাখিয়া দেন, ইঁহাদের লেখা সময়ে সময়ে বড়োই মিষ্ট। Bear the responsibility থাকিলে ইহার তর্জমা করেন, জবাবদিহি বহন। Is appointed a lecturer তর্জমা করেন বক্তা নিযুক্ত হইয়াছেন। He seconded my proposal, আমার প্রস্তাব দ্বিতীয় করিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
সরস্বতীর বরপুত্র বা ভিক্ষাপুত্র বলিয়া পরিচিত হইবার বাসনা বড়োই প্রবল। মনে মনে সকলেই অহম্ উত্তম পুরুষ। জ্ঞান আমি জিনিয়স। সুতরাং খাটিবার ইচ্ছা একেবারেই নাই। ইংরেজি পুস্তক যেমন দেখিলেন, অমনি তখনই তর্জমা করিয়া ফেলিলেন। প্রায় পূর্বকালের মাছিমারা কেরানিদিগের মতো যথা দৃষ্টং তথা লিখিতং করিয়া ফেলিলেন। অনেক সময়ে তাঁহাদের পুস্তকে দেশী নামগুলি চিনিয়া লওয়া ভার হয়। তাঁহারা মল্লার রায়কে ‘মল্হর’ রায় লেখেন। রাঘবকে রাঘোবা লেখেন। তাঁহাদের গ্রন্থে রাজপুত-কূল-ধুরন্ধর সংগ্রাম সিংহকে আমরা আর চিনিতে পারি না। তাঁহার নাম হয় রাণা সঙ্গ। জয়জীরাও জিজিরায় হন। তাঁতিয়া রায় টান্তিয়া টোপী হন। পবিত্র তীর্থ বারাণসী বেনারস হইয়া যায়। লাহোরের নিকট একটি নগর আছে, তাহার নাম গুজরানওয়ালা। কিন্তু বাংলা ভূগোলে উহাকে চিনিয়া উঠা ভার, উহার নাম গুজরাল্লা হইয়াছে।
যাহারা দেশীয় নামের বানান পর্যন্ত ঠিক করিয়া লইতে অনিচ্ছুক তাহারা যে নূতন শব্দ প্রয়োগ করিবার পূর্বে স্থিরভাবে বিবেচনা করিয়া দেখিবে ইহা একান্ত অসম্ভব। ইচ্ছামতো নূতন শব্দ গঠনের বড়ো বড়ো ইংরেজি কথা প্রবেশের এবং ‘জবাবদিহি বহন’ গোছ তর্জমার ফল এই যে বাংলা পুস্তক প্রায়ই অত্যন্ত দুর্বোধ্য হইয়া উঠে বরং সংস্কৃত বা ইংরেজি বুঝা যায়, তথাপি বাংলা বুঝা যায় না। ইহারই জন্য শিক্ষিত মহলে বাংলার তাদৃশ আদর হয় না। ইহার আর এক ভয়ানক দোষ এই যে ভাষার কিছু স্থিরতা থাকে না। অধিকাংশ বাংলা লেখক বাংলা পড়েন না কেবল লেখেন। নূতন ভাব প্রকাশ করিতে হইলে তাঁহারা নিজের মনোমতো নূতন শব্দ গড়িয়া দেন। পূর্বে অন্য লোক সেই ভাব ব্যক্ত করিবার জন্য কী কথা ব্যবহার করিয়াছেন, তাহারা সন্ধান লয়েন না। এইরূপে একটি ভাব প্রকাশের জন্য রাশি রাশি নূতন কথা সৃষ্টি করা হয়। অথচ আমরা দেখিতে পাই, হয় চলিত ভাষায় না-হয় পার্শ্বস্থ দেশের চলিত ভাষায় অথবা চলিত সংস্কৃতে একটু খুঁজিলে উৎকৃষ্ট শব্দ পাওয়া যাইত।
দুই-একজন লোক এমনি আহাম্মক আছে যে ঘরে টাকা থাকিতে ধার করে। আমাদের বাঙালি লেখকও ঠিক সেইরূপ হইতেছে। বৃথা অভিধানের কলেবর বৃদ্ধি হইতেছে, অথচ ভাষার কিছুমাত্র উন্নতি হইতেছে না, এবং বাংলা ভাষা কী তাহাও ঠিক হইতেছে না। বাংলা যে সংস্কৃত হইতে স্বতন্ত্র ভাষা সংস্কৃত হইতে ইহার সত্তা স্বতন্ত্র, জীবন স্বতন্ত্র, উৎপত্তি, স্থিতি, এবং লয় এই তিনই স্বতন্ত্র, এ কথা বর্তমান লিখিত বাংলা ভাষা দেখিলে কাহারো বোধগম্য হয় না। যে পারস্য-ভাষায় প্রায় ৭ শত বৎসর ধরিয়া দেশের প্রধান প্রধান কার্য সম্পন্ন হইয়াছে, ভদ্রসমাজে কথিত বাংলা ভাষায় শতকরা ৫০টি কথা যে ভাষা হইতে গৃহীত, বাংলা ব্যাকরণের হাড়ে হাড়ে যে ভাষা বাঁধিয়া আছে, যে ভাষার কথা ব্যবহার করিলে দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা বুঝিতে পারে, আমরা প্রাণপণে সে ভাষার কথাগুলি লিখিত ভাষা হইতে দূর করিবার চেষ্টা করি। নালিশ বলিলে সকলে বুঝিতে পারে; কিন্তু তাহা ত্যাগ করিয়া গ্রন্থকারেরা অভিযোগ লেখেন। অথচ সংস্কৃত অভিধান খুঁজিলে অভিযোগ শব্দে আর-এক অর্থ বুঝায়, নালিশ বুঝায় না। এইরূপে আদালতে প্রচলিত সমস্ত পারসি কথা লিখিত বাংলা হইতে উঠিয়া গিয়াছে। সেই সকলের পরিবর্তে অতি দুর্বোধ্য সংস্কৃত শব্দসকল অসংস্কৃত অর্থে ব্যবহৃত হইতেছে।
উদাহরণ—রফা বলিতে গেলে মকদ্দমা মিটাইয়া ফেলাকে বলে, মীমাংসা বলিলে সে অর্থ বুঝায় না, কিন্তু রফার জায়গায় অনেকেই মীমাংসা ব্যবহার করিয়া থাকেন।
পাট্টা কবুলতি চলিত কথা, সকলেই বুঝিতে পারে, কিন্তু অনেকে উহার পরিবর্তে ভোগনিয়োগপত্র না এমনি কী একটা কথা ব্যবহার করেন তাহা আমাদের মনে থাকে না। কেহ তাহা বুঝেও না।
যখন বিদ্যাসাগর মহাশয় প্রভৃতি মহামহোপাধ্যায় সংস্কৃতাধ্যাপকগণ প্রথম বাংলা লিখিতে আরম্ভ করেন, তখন পারস্য কথার প্রতি এরূপ বিদ্বেষ থাকা কতক সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন লেখকগণের মধ্যে সংস্কৃত পণ্ডিত অতি বিরল। কিন্তু সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করিতে হইবে, এ বিষয়ে উহাদের অপেক্ষাও ইহারা অধিক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু ইহারা সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করিতে গিয়া প্রায়ই অর্থবিষয়ে ভয়ানক ভুল করিয়া ও নানারূপ গোলযোগ করিয়া বসেন।
যে সর্বদা উচ্চ অঙ্গের শাস্ত্রতত্ত্ব ভাবিয়া থাকে তাহার নাম ইংরেজিতে thoughtful, বাংলা লেখকেরা উহার নাম রাখিয়াছেন, চিন্তাশীল। চিন্তা বলিলে বাংলায় দুর্ভাবনা বুঝায়, চিন্তিত, চিন্তাযুক্ত, চিন্তাশীল বলিলে, যে সর্বদা দুর্ভাবনাগ্রস্ত অর্থাৎ মনমরা তাহাকেই বুঝায়। সুতরাং চিন্তাশীল শব্দে গ্রন্থকার যাহা বুঝিলেন পাঠক তাহার ঠিক উল্টো বুঝিল।
উপন্যাস বলিতে গল্প বুঝায়, কিন্তু ইংরেজিতে একপ্রকার উপন্যাস আছে তাহার নাম নবেল, তাহাতে এবং উপন্যাসে প্রণালীগত একটু ভেদ আছে, এইজন্য বাঙালি লেখকেরা উপন্যাস শব্দ ত্যাগ করিয়া নবেলের নাম নবন্যাস রাখিয়াছেন। নবন্যাস বলিতে গেলে সংস্কৃতে নূতন গচ্ছিত ধন বুঝায়, কারণ ন্যাস মানে গচ্ছিত ধন, অতএব নবন্যাস কথাটি সম্পূর্ণরূপে অপরিহার্য।
এক-একদল সৈন্যের নাম আছে column; কিন্তু column বলিতে থাম বুঝায় আর থামের সঙ্গে সৈন্যদলের ইংরেজের চক্ষে কোনোরূপ সৌসাদৃশ্য থাকায় বোধ হয় ইংরেজে উহাকে column বলে, আমাদের সে সৌসাদৃশ্য চক্ষে লাগে না তথাপি আমাদের লেখকেরা অনায়াসে সৈন্যস্তম্ভ বলিয়া উহার তর্জমা করিয়া থাকেন।
তাই আমরা বলিতেছিলাম, লিখিতে বসিয়া ভাব প্রকাশ করিবার পূর্বে যে কথাগুলি ব্যবহার করিতে হইবে, বিশেষরূপ তদন্ত করিয়া তাহাদের অর্থ ঠিক করা উচিত। এবং নূতন শব্দ গঠনের পূর্বে বিশেষরূপ সতর্ক হওয়া উচিত।
এ-সকল অপেক্ষা আর-একটি সহজ পরামর্শ আছে। যতদিন পর্যন্ত মনোমধ্যে ভাব ইংরেজিতে উদয় হয় ততদিন যেন কেহ বাংলা লিখিতে না বসেন। বাংলা লিখিতে আরম্ভ করিবার পূর্বে যেন বাংলায় ভাবিতে শিখা হয়, তাহা হইলে অনেক সময় নূতন ভাব আপনা আপনিই বাংলায় প্রকাশ হইয়া পড়িবে। তাহার জন্য বেশি মাথা কুটাঁকুটি করিতে হইবে না।

সূত্র: বঙ্গদর্শন, জ্যৈষ্ঠ ১২৮৮।

WhatsAppFacebookXLinkedIn

More from the Journal

বই কেনা
Publishing Insights

বই কেনা

Jun 19, 2026

বই সম্পাদনা কেন দরকার
Publishing Insights

বই সম্পাদনা কেন দরকার

Jun 19, 2026

রুপালি স্নান

রুপালি স্নান

Jun 19, 2026

Comments

Sign in to join the conversation.

Sign in to comment